শুক্রবার

২৭ মে ২০২২


১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২৪ শাওয়াল ১৪৪৩

এলসি বৃদ্ধি: বাড়বে গাড়ির দাম, রাজস্ব হারাবে সরকার

এইচএম আল ইমরান খান || বিজনেস ইনসাইডার

প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১৩ মে ২০২২  
এলসি বৃদ্ধি: বাড়বে গাড়ির দাম, রাজস্ব হারাবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা (১৩ মে): গাড়ি আমদানির জন্য এলসির নগদ মার্জিনের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করায় দেশের বাজারে গাড়ির দাম বাড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত দেশের গাড়ি আমদানিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এছাড়া সরকারও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে বলে গাড়ি বিক্রেতারা মনে করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক, মঙ্গলবার একটি সার্কুলারের মাধ্যমে মোটর গাড়ি, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য আমদানির জন্য এলসির ন্যূনতম বাধ্যতামূলক নগদ মার্জিন ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং বিনিময় হারের উপর চাপ কমানোর জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাপান থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কারক আরিফ খান বিপু বলেন, নগদ এলসির মার্জিন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কারণে আমদানি করা গাড়ির দাম বাড়বে।

বিজনেস ইনসাইডার বাংলাদেশকে আরিফ খান বলেন, আমদানিকারকদের একটি এলসি খোলার জন্য বিপুল পরিমাণ নগদ জমা করতে হবে। তাই, গাড়ি আমদানি হ্রাস পাবে। ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী যদি এক মাস আগে ১০টি গাড়ি আমদানি করতেন, এখন তিনি একটি বা দুটি গাড়ি আমদানি করবেন। কারণ এলসি খোলার জন্য তাকে ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রাখতে হবে।

গাড়ি, বাস এবং ট্রাকই হোক না কেন, বাংলাদেশ পুরোপুরি মোটরযান আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মোটরযানের দাম স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে। যেমন এলসি মার্জিন, মুদ্রা বিনিময় হার এবং সুদের হার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে ৮,৭৬৮টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫,৬৬২টি।

গত কয়েক বছর ধরে লোকজন হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি বেশি পছন্দ করায় এখন প্রতি বছর রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানি হ্রাস পাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে আরও দেখা গেছে যে, বাংলাদেশ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮,৩৬৬টি হাইব্রিড গাড়ি আমদানি করেছে। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৩,২৯৬ ইউনিট।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক নেতৃবৃন্দও এলসি মার্জিনের বৃদ্ধি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন যে, এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় গাড়ির বাজার এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এনবিআরের তথ্যে দেখা গেছে, সরকার গাড়ি থেকে বছরে ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

বারভিডার সাবেক নেতা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে গাড়ি ব্যবসা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে, টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়নের কারণে আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গাড়ির দাম আরও বাড়াবে।

হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার অবশ্য যেকোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারে এবং আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই। তবে এলসি ক্যাশ মার্জিনকে এতো বিপুল ভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট খাটো গাড়ি আমদানিকারকরা।

তিনি আশঙ্কা করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে সামগ্রিক ভাবে গাড়ি আমদানি ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি হ্রাস পেতে পারে। তাই, গাড়ি আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

বারভিডার আরেক সাবেক নেতা ও আমদানিকারক মো. ফারুক বলেন, আমদানি করা গাড়ি দেশে আনতে এক মাস বা তার বেশি সময় লাগে।

গাড়িগুলি বন্দরে আসার পরে আমাদের ডলারের হার অনুসরণ করে দাম সামঞ্জস্য করতে হয়। সার্বিক আমাদের জন্য ব্যবসা করা কঠিন করে তুলেছে।

 

UCB

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়