United Commercial Bank (UCB)

মঙ্গলবার

০৪ অক্টোবর ২০২২


১৯ আশ্বিন ১৪২৯,

০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন দরকার’

সৌমিক আহম্মেদ অনিক || বিজনেস ইনসাইডার

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৮:৫৮, ১৫ আগস্ট ২০২২
‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন দরকার’

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা (১৫ আগস্ট): জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করার জন্য একটি তদন্ত কমিশন দরকার বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

রবিবার বিজনেস ইনসাইডার বাংলাদেশের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “এই জঘন্য কাজের জন্য কারা দায়ী ভবিষ্যত প্রজন্মকে সেটা জানানোর জন্য ওই ঘটনার নেপথ্য খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে বস্তুনিষ্ঠ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা উচিত।

ড. আরেফিন সিদ্দিক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা, ১৯৭৫ সালে জেল হত্যা এবং ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা সবই একটি গোতের অনুসারীরা পরিকল্পনা করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালেও খন্দকার মোশতাক আহমদ পাকিস্তান সরকারের সাথে যোগাযোগ করে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রের একটি কনফেডারেশন গঠন করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনা জানার পর মুজিবনগর সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৬তম অধিবেশনে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আবদুস সামাদ আজাদকে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে মোস্তাকের থাকার কথা থাকলেও তাকে সেখান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ড. আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, স্বাধীনতার আগেই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা আরও প্রসারিত হয়েছিল। এর পটভূমিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শরিফুল হক ডালিম (তৎকালীন মেজর) বাংলাদেশ বেতারের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এক ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা জানান। তারা তখন রেডিও পাকিস্তানের সাথে সাদৃশ্য রেখে বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে রেডিও বাংলাদেশ করে।

ড. আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জঘন্য ষড়যন্ত্রের পেছনে পাকিস্তানের সমর্থকদের হাত ছিল।

কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৭৫ এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রস্তুতি ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাদের শাসনামলে সামরিক অভ্যুত্থান, সামরিক আইনের ডিক্রি, আদেশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বৈধতার জন্য আইনটি সংশোধন করেন।

কুখ্যাত এ আইন সম্পর্কে ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’ ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো আইন। এর পুরো পরিকল্পনাই করেছিল বাংলাদেশকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে চাওয়া পাকিস্তানের সমর্থকরা।

ড. আরেফিন বলেন, আরও আগেই এ ব্যাপারে একটি কমিশন গঠন করা উচিত ছিল। তবে তিনি আশাবাদী যে এই বছরের শেষের দিকে এমন একটি কমিশন গঠিত হতে চলেছে। এ কমিশন কীভাবে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে কারা ছিল সেই রহস্য উৎঘাটন করবে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য ঘটনানো হয়নি। এ দেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করার জন্য বাংলাদশে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করতেই এটা করা হয়েছিল।

 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়